সোমবার, ০৬ Jul ২০২৬, ০৬:১০ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত যুবক রায়হান আহমদের (৩৪) লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে আবার ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই বাতেন নিহত রায়হানের লাশ পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। পরে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ‘জেলা প্রশাসক অনুমতি দিয়ে একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করেছেন। ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথা বলে লাশ কবর থেকে উত্তোলনের ব্যাপারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে আলোচিত এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার নথিপত্র মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতেই পিবিআইর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিটি সার্ভিস) জ্যোর্তিময় সরকার।
তিনি পুনরায় ময়নাতদন্তের বিষয়টি শুনেছেন উল্লেখ করে বলেন, ‘বর্তমানে মামলাটি পিবিআইর হাতে। তারাই এ বিষয়ে ব্যাবস্থা নেবেন।’
এদিকে মামলার নথি হাতে পেয়েই আজ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্তে নামে পিবিআই। বেলা ১২টার দিকে ঘটনাস্থল বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে প্রাথমিক তদন্তে নেমেছেন পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা। এসময় তারা ফাঁড়ির এলাকা ‘ক্রাইম সিন’ ফিতা দিয়ে ঘিরেও রাখেন।
এর আগে রোববার ভোরে নগরের কাস্টঘর এলাকায় ‘ছিনতাইকারী’ সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত হলে হাসপাতালে নিলে রায়হানের মৃত্যু হয় বলে জানায় পুলিশ। এরপরই তার পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ফাঁড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।
ওইদিন দিবাগত রাতে নগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার। এছাড়া এসএমপির তিন সদস্যের একটি দল ঘটনার তদন্তে নামে। প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে এসএমপির হেডকোয়ার্টারের আদেশে ওই ফাঁড়ি ইনচার্জসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বহিষ্কার এবং তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়।
সাময়িক বহিষ্কৃতরা হলেন, ফাঁড়ি ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) তৌহিদ মিয়া, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাশ ও হারুনুর রশীদ। আর প্রত্যাহার করা তিনজন হলেন সহকারী উপ-দর্শক (এএসআই) আশীক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজীব হোসেন।
নিহত রায়হান নগরের আখালিয়া নেহারিপাড়ার বাসিন্দা। তার বাবা মৃত রফিকুল ইসলাম। তিনি দুই মাসের এক কন্যা সন্তানের জনক। দুই বছর ধরে তিনি সিলেট জেলা স্টেডিয়াম মার্কেটের চিকিৎসক ডা. গোলাম কিবরিয়া ও ডা. শান্তা রাণীর চেম্বারে সহকারীর কাজ করতেন।
নগরকন্ঠ.কম/এআর